ঘুম ভেঙেছে সকাল সাড়ে আটটায়। কিন্তু, তখনো ঘোর কাটেনি। দাঁতের মাড়ির ব্যাথায় প্রতি রাতে দেরিতে ঘুম আসে। আজ বাসা থেকে তাড়াতাড়ি বেরুতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন পোড়া রোগীকে রক্ত দিতে হবে। খুব গরীব তারা। হঠাৎ বন্ধুর ফোন। এই বন্ধুটি হলো ব্লগের সূর্য পুত্র। বললো তল পেটে খুব ব্যাথা হচ্ছে। তাই আজ বই মেলায় আসতে পারছে না। তবে, ব্যাথাটা নাকী একটু বেশিই।
আমি জিঙ্গাসা করলাম, কোন দিকে ব্যাথা? ও বললো পেটের ডান দিকে। আমি জিঙ্গাসা করলাম, কিডনীর দিকে কি ব্যাথা হচ্ছে? জবাব এলো- হু! এপেনডিসাইটিস এর ধারনা করছে সে। আমি বললাম, সব ব্যাথাই এপেনডিসাইটিস না। এটা দেখা মাত্র বলা যায় না। অবজারভেশন করে বলতে হয় এবং তাৎক্ষণিক অপারেশন করাতে হয়। সে বললো, ব্যাথার মাত্রা খুব বাড়ছে। আমি কিছুটা আন্দাজ করা মাত্র বললাম, শীঘ্রই হাসপাতালে যা! উত্তর এলো..হু দেখি।
আমি বেরিয়ে গেলাম। মাড়িতে তখনো ব্যাথা আছে। নাস্তা হিসেবে ভাত অথবা পারাটা। খেলাম না কিছু। হোটেলে তুন্দুল খেলাম। সাথে ডাল-ভাজি। অনেক দিন পর এই নাস্তা। বাসে গেলাম নীলক্ষেত। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল। যেতে অনেক সময় লাগলো। মারামারি চলছে। ইতি মধ্যে ঐ রোগীর লোক আমাকে বার বার ফোন করছে। তারা এতোই গরীব যে একটি নিজস্ব মোবাইলও তাদের কাছে বিলাসীতা। আজ কাল রাস্তার ভিক্ষিরিদের কাছেও মোবাইল থাকে। দোকান থেকে আমাকে ফোন করলো তিনবার। আমি বললাম, চিন্তার কিছু নেই। আমি আসছি। আমার যাবার কথা ছিল ১১টায়। সোয়া ১১টায় গিয়ে পৌঁছলাম। বার্ন ইউনিট এর পঞ্চম তলায়। বেড নং ২৯। সব ফ্লোরিং বেড। তিন তলার চেয়ে বহু গুন খারাপ অবস্থা। আমাকে এর আগেও বেশ কয়েকবার আসতে হয়েছিল বার্ন ইউনিটে রক্ত দিতে।
রক্ত দিয়ে গেলাম কাটাবন। সালমা আপু লিফলেট নিতে এলেন। তিনি রাস্তা চেনেন না। তাই তাঁকে সহজ পথে আসতে বললাম গাড়ি নিয়ে। লিফলেট দিয়ে বললাম দ্রুত চলে যেতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি বাড়ছে। কাটাবন মোড়ে রাস্তা বন্ধ। স্টলের জন্য কিছু জিনিস কেনার ছিল। নিউ মার্কেট ঘুরে কিনলাম। তার আগে দুপুরে খেলাম থ্রি কোয়াটার তেহেরি। স্টলে গেলাম। দীপ্তি আসবে চারটায়। ইতি মধ্যে চ্যানেল আই এর এক উপস্থাপক আমাকে বলে গেলেন, ভাই আপনি কি একটু আসবেন সোয়া চারটায়? একটা ইন্টারভিউ নেব আমারব্লগ সম্পর্কে। আমি পড়লাম বেকায়দায়। স্টল ফেলে কিভাবে যাবো? তিনি আবার বললেন পারলে যেন একজন মহিলা ব্লগার নিয়ে যাই।
মুকুল ভাই ছিলেন তখন সামনে। আমি ওনাকে বললাম, মুকুল ভাই- আমি কি এখন মহিলা ব্লগার পয়দা করে আনবো? :-B
চারটা ৭ বাজতেই দীপ্তি এলো। আমি তাকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম ইন্টারভিউ দিতে। সরাসরি সম্প্রচার। হঠাৎ আবার সূর্য পুত্রের ফোন। গলার স্বর খুব দূর্বল। শুধু বলতে পারলো, “দোস্ত আমি হাসপাতালে”। :-O নিকুচি করি ইন্টারভিউর। কিন্তু, আমি নিরুপায় :-S । ভাগ্য ভাল, চ্যানেল আই এর কী যেন সমস্যা হয়েছে। সরাসরি সম্প্রচার দেরিতে হবে। আমি মার্শালকে ফোন দিলাম। খবর জানালাম। তারপর কৌশিককে ( সূর্য পুত্র) । ইনজেকশন দিয়েছে। ২৪ ঘন্টার অবজারভেশনে রাখবে তাকে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুপুর দেড়টার পর। উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটালে। ডাক্তার কোন কিছু বলতে পারছে না। আমি ইন্টারভিউ দিয়ে স্টলে গেলাম। আবারো ফোন করলাম। কোন অগ্রগতি নেই। বাসায় ফেরার সময় আবারো ফোন করলাম। ব্যাথা কমেছে। তবে বিকাল থেকে তাকে কোন খাবার বা পানি দেয়া হচ্ছে না। ঘটনা ঘোলাটে করা হচ্ছে। কাল রাত ৯টা পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। অবস্থা দেখে তারপর অপারশেন এর ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
আমি সকালে যাবো। দেখি কি অবস্থা……………… শুধু আপনাদের কাছে এই উচ্ছাস পূর্ণ ছেলেটির জন্য সামান্য দোয়া চাই। আর কিছু না।

[ছবি অনুলেখা: পাগালাটে বন্ধু আমার সূর্য পুত্র ]
ব্লগার সূর্য পুত্রের দেয়া শেষ পোস্টটিতে সে জ্বরকে না আসার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু জ্বর তো এলোই সাথে নিয়ে এলো আরো কিছু….
আপডেট খবর ( ৪/০২/২০১০ রাত ১১টা)
কিডনী এবং এপেনডিসাইটিস এর সমস্যা ধরা পড়েছে। ডাক্তার রাত সাড়ে ৯টায় কৌশিককে পরীক্ষা করে গেছেন। অপারেশন রাতে আর হচ্ছে না। খাবার দেয়া এখনো বন্ধ রয়েছে। সেলাইন এবং ইনজেকশন চলছে। শরীর মারাক্তক ভাবে দূর্বল। হালকা জ্বর আছে। কথা বলতে পারছে না ঠিক ভাবে।
আপডেট খবর (৫/০২/২০১০ দুপুর ২টা ২৭)
কৌশিকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রত ইউনাইটেড হসপিটালে নেয়া হচ্ছে…..