![]()
তখনো আমি ব্যক্তিগত মুঠোফোন নেইনি। তাছাড়া তখন মুঠোফোনের দাম ভাবতেই ভয় লাগতো। তাই ফোনের দোকানের উপরেই ভরসা।
তখন কলেজে পরীক্ষা চলছিলো। একদিন পরেই ছিল অর্থনীতি পরীক্ষা। কিন্তু আমি সাজেশন হারিয়ে ফেলেছি। তাই এক বান্ধবীকে ফোনরে দোকান থেকে ফোন করলাম। তার নম্বরটি ছিলো পি.এ.বি.এক্স। তাই প্রথমে ফোন নম্বরে কল করে রিসিভ করার পর কোড নম্বর দিতে হতো। তো আমি মূল নম্বরে দু/তিন বার কল করার পর লাইন পেলাম। কোড নম্বর দিতে যাব, তখনই একজন পুরুষ গলা হ্যালো বলে, জিঙ্গাসা করলো কাকে চান? আমি বললাম লিজা আছে? উনি ইতস্তত ভাব করে বললেন..জ্বী..আছে। তারপর একজন মহিলা রিসিভারটি ধরলেন। আমাকে জিঙ্গাসা করলেন, “তুমি কে?” আমি ভাবলাম লিজার মা। আমি জিঙ্গাসা করলাম, “লিজা আছে?”। তিনি বললেন ,”লিজার সাথে তোমার কী সম্পর্ক?” আমি মনে করলাম, ভদ্র মহিলা বোধহয় একটু সন্দেহ প্রবণ। তাই বললাম, “জ্বী..আমি ও লিজা একসাথে কলেজে পড়ি। আমার সাজেশনটা হারিয়ে গেছে, তাই ওর কাছ থেকে নেবার জন্য ফোন করেছি।”
মহিলা এই কথা শোনার পর বেশ্ চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, “তুমি লিজার সাথে কলেজে পড়ো! একসাথে! বেয়াদব ছেলে (!)
আমার সাথে ফাজলামি করো। তুমি জানো আমার লিজার বয়স? তার বয়স এখন সাড়ে চার মাস..(!!!)….” [আসলেই ফোনটা করার পর থেকেই একটা পিচ্চি বাচ্চার চেচামেচির শব্দ পাচ্ছিলাম]![]()
আমি তো পুরোপুরি থ….!!!
উনি আমাকে কোন কথা না বলতে দিয়ে বোকা-ঝোকা করে লাইন কেটে দিলেন। আমি ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করতে থাকলাম। তখনো হাতে ধরে আছি রিসিভারটা। আমি ডায়াল নম্বর থেকে নম্বরটা চেক্ করলাম। কিন্তু ..একী! নম্বর তো ঠিকই আছে!
পরদিন কলেজে গিয়ে লিজাকে (আসল লিজা) জিঙ্গাসা করলাম, “তোর নম্বর তো ভুল!” সে বললো, “হতেই পারেনা।” সে নম্বর চেক্ করে বললো যে, নম্বর টিকই আছে। পুরো ঘটনাটা বলার পর সেখী হাসি। আসলে মেয়েদের পেটে কথা থাকে না। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটা সবার কানে কানে চলে গেল। সেকী লজ্জা….!…লজ্জা….![]()
