রমজান এবং ঈদ-উল-ফিতর – ঈদ মোবারক

সেপ্টেম্বর 21, 2009

আরবি সালকে বলা হয় হিজরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) হিজরত করার সময় থেকে এই সাল গণনা শুরু হয়। চাঁদের সাথে হিসাব করে এই গণনার সালটি ৩৫৪ দিনে বছর হয়। ১২ মাসের নবম মাসটি হচ্ছে রমজান, যা সবচেয়ে পবিত্র এবং তাৎপর্য বহুল একটি মাস। মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অনুযায়ি মুসলমান প্রাপ্ত বয়স্ক (১২ বছর থেকে) সকল নর-নারীকে রোজা রাখতে হয়। রোজা অর্থ বিরত থাকা। রমজান মাস তাই সংযোমের মাস। দিনের বেলায় সকল খাবার কে আল্লাহ তায়ালা হারাম ঘোষণা করেছেন এই পুরো রমজান মাসে। এছাড়া শরীর অপবিত্র হয় (যেমন: শারীরিক সম্পর্ক) এমন কাজ কে আরো কঠোর ভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এই রমজান মাসে। এই রমজান মাসেই পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয় মহানবীর উপর। যা, আর চারটি আসমানী কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ্য।

রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য তাহরাবির নামায পড়া একান্ত জরুরি। তবে, এটা যে জামাতেই পড়বে হবে এমন কোন কঠোর বিধান নেই। মহানবী নিজে তারাহবীর নামায নিজ ঘরে আদায় করতেন। তবে, কুরআন খতমের মতো অন্যতম সোয়াব পাবার আশায় মুসলমানরা তাহরাবীর নামায জামাতের সাথে হাফেয দ্বারা আদায় করে থাকে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ধনী এবং গরিব সৃষ্টি করেছেন মানুষের মনুষ্যত্ব এবং মহত্ব দেখার জন্য। যাকে তিনি সম্পদ দিয়েছেন, তাকে হুকুম করেছেন গরিবকে সাহায্য করার জন্য। আর তারই পরিপেক্ষিতে রমজান মাসের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক-এর উপর যাকাত প্রদান করা ফরজ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এর সাথে মাথাপিছু ফিতরা প্রদানের হুকুম দিয়েছেন, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদের জামাত এর পূর্বে পরিশোধ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। মুলহ এই ফিতরা প্রদানের মতো একটি আনন্দজনক কাজ এর কারণে এই ঈদের নাম “ঈদ-উল-ফিতর”।

ধনী আর গরিবের মধ্যে পার্থক্য কমাতে, সমাজে শোসনকে পরিত্যাগ করতে এই নিয়ম। ঈদ প্রতিটি মানুষের জন্য আনন্দময় একটি উৎসব। ঈদের দিন সবাই পরিষ্কার কাপর পরে। গায়ে সুগন্ধি মাখে। ঈদ মানুষকে আরো ত্যাগি এবং মহিমান্বিত করে। আমাদের সবার উচিৎ সাম্যতা বজায় রেখে চলা। আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য যে সব নিয়ম প্রদান করেছেন, তা প্রতিটি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবজীবনকে সুখি করার ক্ষেত্রে অতুলনীয়।

আসুন, আমার রমজান এবং ঈদ থেকে নিজেদের শুদ্ধ করি, সমাজের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব গুলো সঠিক ভাবে পালন করি। ঈদ সবার জন্য। ধনী-গরিব-নর-নারী এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্যও।

পরিশেষে, সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই “ঈদ মোবারক”

একটি সংযুক্তি দিলাম ব্লগার ফরুকের লেখা। এখানে ক্লিক করুন।

পুনশ্চ: ব্লগার ফারুকের লেখাটি আমার লেখার পরে খুঁজে পেয়েছি। তাই দিয়ে দিলাম সবার জন্য। ওতে তারাহবীর নামায নিয়ে তথ্য আছে।

“লিজা এবং লিজা” [একটি ফোন কলের আত্ন-কাহিনী]

ডিসেম্বর 4, 2008

-&

তখনো আমি ব্যক্তিগত মুঠোফোন নেইনি। তাছাড়া তখন মুঠোফোনের দাম ভাবতেই ভয় লাগতো। তাই ফোনের দোকানের উপরেই ভরসা।

তখন কলেজে পরীক্ষা চলছিলো। একদিন পরেই ছিল অর্থনীতি পরীক্ষা। কিন্তু আমি সাজেশন হারিয়ে ফেলেছি। তাই এক বান্ধবীকে ফোনরে দোকান থেকে ফোন করলাম। তার নম্বরটি ছিলো পি.এ.বি.এক্স। তাই প্রথমে ফোন নম্বরে কল করে রিসিভ করার পর কোড নম্বর দিতে হতো। তো আমি মূল নম্বরে দু/তিন বার কল করার পর লাইন পেলাম। কোড নম্বর দিতে যাব, তখনই একজন পুরুষ গলা হ্যালো বলে, জিঙ্গাসা করলো কাকে চান? আমি বললাম লিজা আছে? উনি ইতস্তত ভাব করে বললেন..জ্বী..আছে। তারপর একজন মহিলা রিসিভারটি ধরলেন। আমাকে জিঙ্গাসা করলেন, “তুমি কে?” আমি ভাবলাম লিজার মা। আমি জিঙ্গাসা করলাম, “লিজা আছে?”। তিনি বললেন ,”লিজার সাথে তোমার কী সম্পর্ক?” আমি মনে করলাম, ভদ্র মহিলা বোধহয় একটু সন্দেহ প্রবণ। তাই বললাম, “জ্বী..আমি ও লিজা একসাথে কলেজে পড়ি। আমার সাজেশনটা হারিয়ে গেছে, তাই ওর কাছ থেকে নেবার জন্য ফোন করেছি।”

মহিলা এই কথা শোনার পর বেশ্ চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, “তুমি লিজার সাথে কলেজে পড়ো! একসাথে! বেয়াদব ছেলে (!) -* আমার সাথে ফাজলামি করো। তুমি জানো আমার লিজার বয়স? তার বয়স এখন সাড়ে চার মাস..(!!!)….” [আসলেই ফোনটা করার পর থেকেই একটা পিচ্চি বাচ্চার চেচামেচির শব্দ পাচ্ছিলাম]|

আমি তো পুরোপুরি থ….!!!-/ উনি আমাকে কোন কথা না বলতে দিয়ে বোকা-ঝোকা করে লাইন কেটে দিলেন। আমি ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করতে থাকলাম। তখনো হাতে ধরে আছি রিসিভারটা। আমি ডায়াল নম্বর থেকে নম্বরটা চেক্ করলাম। কিন্তু ..একী! নম্বর তো ঠিকই আছে!

পরদিন কলেজে গিয়ে লিজাকে (আসল লিজা) জিঙ্গাসা করলাম, “তোর নম্বর তো ভুল!” সে বললো, “হতেই পারেনা।” সে নম্বর চেক্ করে বললো যে, নম্বর টিকই আছে। পুরো ঘটনাটা বলার পর সেখী হাসি। আসলে মেয়েদের পেটে কথা থাকে না। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটা সবার কানে কানে চলে গেল। সেকী লজ্জা….!…লজ্জা….|