সতের৭ব্লগ

ফেব্রুয়ারি 21, 2010

অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ( ফটো ও ভিডিও)

যার অধীনে আছে: বাংলা ব্লগ,বাংলাদেশ — অরণ্য আনাম @ 3:47 পুর্বাহ্ন
Tags: , , ,


রাত ১২টায় রাজু ভাস্কর্যে

রাত সাড়ে ৯টায় আমি এবং পরাগ স্টল থেকে বের হলাম। মার্শাল টিএসসিতে অপেক্ষা করছিল। ওখানে গিয়ে মার্শালকে পেন ড্রাইভে ছবি আর মুভি দিলাম। ক্ষুধায় পেট আমার চো চো করছে। মার্শাল বললো, “চলো! নীলক্ষেত গিয়া তেহেরি খাই”। আমরা তিন জন হেঁটে হেঁটে গেলাম নীলক্ষেত। শুধু তেহেরি আর খিচুরি আছে। পরাগ তো গরুর মাংস খাবে না। অন্য হোটেল থেকে ভাত আর মাছ আনালাম। খুব নাকী ঝাল। পরাগের অবস্থা টাইট।

খাওয়া শেষে চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে রিক্সায় গেলাম শাহবাগ। মার্শাল চলে গেল বাসায়। আমি আর পরাগ ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু, আমার ক্যামেরা ঝামেলা করছে। রীতিমত ডার্করুমের কাজ করলাম। কিন্তু সমস্যা আরো রাড়লো। তারপর ঠান্ডা মাথায় টিএসসি চত্বরে গিয়ে অন্ধকারে বসে ক্যামেরার সমস্যা সমাধাণ করলাম। পুরো সফল।


দুই ভাই ভ্যান গাড়িতে গুটিসুটি করে শীতের মধ্যে শুয়ে আছে।
ছবি তুলছি। ১২টা বাজলো। সাড়ে ১২টার পর আমি আর পরাগ রওনা দিলাম শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে। এবার রাস্তা ব্যবহারে খুব কড়াকড়ি। আমার কাঁধে ল্যাপটপ ব্যাগ + আমার ব্যাগ + ট্রাইপোড। অনেক ভারী। আমার অবস্থা কাহিল। কোমর আর কাঁধের অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। পরাগ এই প্রথম শহীদ মিনারে একুশে ফেব্রুয়ারিতে এসেছে। তাও আবার সবার উপরে উঠেছে, ছবি তুলেছে। এই রকম অভিজ্ঞতা গত বছর ছিল বোকাসোকার।


রাত পৌনে ১টায় শহীদ মিনার।


শহীদ মিনারের এক দিক।


শহীদ মিনার বেদিতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং ঢাবি উপাচার্যের পুষ্পার্ঘ।


এই শিশুটিও এসেছিল বড়দের সাথে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে।

বেশ কিছু ছবি তুললাম এবং ভিডিও করলাম। ছবি তুলে মজা পাচ্ছিলাম না। কেমন যেন অসহায় লাগছিল পরিবেশের কাছে। রাত ৩টার পর টিএসসির বারান্দায় এলাম। শীত বাড়ছে। পরাগের অবস্থা খারাপ। তার খুব শীত লাগছে। চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো। আমি ল্যাপটপ নিয়ে ছবি আপলোড দিলাম সাথে এই পোস্ট। খুব ক্ষিধে লেগেছে। দু কাপ চা আর একটা কেক খেয়ে রইলাম।

ভিডিও:

ফেব্রুয়ারি 4, 2010

সূর্য পুত্রে জন্য একটু দোয়া চাই…… [ আপডেট খবর ]

যার অধীনে আছে: বাংলা ব্লগ — অরণ্য আনাম @ 12:17 অপরাহ্ন
Tags: , , ,

ঘুম ভেঙেছে সকাল সাড়ে আটটায়। কিন্তু, তখনো ঘোর কাটেনি। দাঁতের মাড়ির ব্যাথায় প্রতি রাতে দেরিতে ঘুম আসে। আজ বাসা থেকে তাড়াতাড়ি বেরুতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন পোড়া রোগীকে রক্ত দিতে হবে। খুব গরীব তারা। হঠাৎ বন্ধুর ফোন। এই বন্ধুটি হলো ব্লগের সূর্য পুত্র। বললো তল পেটে খুব ব্যাথা হচ্ছে। তাই আজ বই মেলায় আসতে পারছে না। তবে, ব্যাথাটা নাকী একটু বেশিই।

আমি জিঙ্গাসা করলাম, কোন দিকে ব্যাথা? ও বললো পেটের ডান দিকে। আমি জিঙ্গাসা করলাম, কিডনীর দিকে কি ব্যাথা হচ্ছে? জবাব এলো- হু! এপেনডিসাইটিস এর ধারনা করছে সে। আমি বললাম, সব ব্যাথাই এপেনডিসাইটিস না। এটা দেখা মাত্র বলা যায় না। অবজারভেশন করে বলতে হয় এবং তাৎক্ষণিক অপারেশন করাতে হয়। সে বললো, ব্যাথার মাত্রা খুব বাড়ছে। আমি কিছুটা আন্দাজ করা মাত্র বললাম, শীঘ্রই হাসপাতালে যা! উত্তর এলো..হু দেখি।

আমি বেরিয়ে গেলাম। মাড়িতে তখনো ব্যাথা আছে। নাস্তা হিসেবে ভাত অথবা পারাটা। খেলাম না কিছু। হোটেলে তুন্দুল খেলাম। সাথে ডাল-ভাজি। অনেক দিন পর এই নাস্তা। বাসে গেলাম নীলক্ষেত। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল। যেতে অনেক সময় লাগলো। মারামারি চলছে। ইতি মধ্যে ঐ রোগীর লোক আমাকে বার বার ফোন করছে। তারা এতোই গরীব যে একটি নিজস্ব মোবাইলও তাদের কাছে বিলাসীতা। আজ কাল রাস্তার ভিক্ষিরিদের কাছেও মোবাইল থাকে। দোকান থেকে আমাকে ফোন করলো তিনবার। আমি বললাম, চিন্তার কিছু নেই। আমি আসছি। আমার যাবার কথা ছিল ১১টায়। সোয়া ১১টায় গিয়ে পৌঁছলাম। বার্ন ইউনিট এর পঞ্চম তলায়। বেড নং ২৯। সব ফ্লোরিং বেড। তিন তলার চেয়ে বহু গুন খারাপ অবস্থা। আমাকে এর আগেও বেশ কয়েকবার আসতে হয়েছিল বার্ন ইউনিটে রক্ত দিতে।

রক্ত দিয়ে গেলাম কাটাবন। সালমা আপু লিফলেট নিতে এলেন। তিনি রাস্তা চেনেন না। তাই তাঁকে সহজ পথে আসতে বললাম গাড়ি নিয়ে। লিফলেট দিয়ে বললাম দ্রুত চলে যেতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি বাড়ছে। কাটাবন মোড়ে রাস্তা বন্ধ। স্টলের জন্য কিছু জিনিস কেনার ছিল। নিউ মার্কেট ঘুরে কিনলাম। তার আগে দুপুরে খেলাম থ্রি কোয়াটার তেহেরি। স্টলে গেলাম। দীপ্তি আসবে চারটায়। ইতি মধ্যে চ্যানেল আই এর এক উপস্থাপক আমাকে বলে গেলেন, ভাই আপনি কি একটু আসবেন সোয়া চারটায়? একটা ইন্টারভিউ নেব আমারব্লগ সম্পর্কে। আমি পড়লাম বেকায়দায়। স্টল ফেলে কিভাবে যাবো? তিনি আবার বললেন পারলে যেন একজন মহিলা ব্লগার নিয়ে যাই। :| মুকুল ভাই ছিলেন তখন সামনে। আমি ওনাকে বললাম, মুকুল ভাই- আমি কি এখন মহিলা ব্লগার পয়দা করে আনবো? :-B

চারটা ৭ বাজতেই দীপ্তি এলো। আমি তাকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম ইন্টারভিউ দিতে। সরাসরি সম্প্রচার। হঠাৎ আবার সূর্য পুত্রের ফোন। গলার স্বর খুব দূর্বল। শুধু বলতে পারলো, “দোস্ত আমি হাসপাতালে”। :-O নিকুচি করি ইন্টারভিউর। কিন্তু, আমি নিরুপায় :-S । ভাগ্য ভাল, চ্যানেল আই এর কী যেন সমস্যা হয়েছে। সরাসরি সম্প্রচার দেরিতে হবে। আমি মার্শালকে ফোন দিলাম। খবর জানালাম। তারপর কৌশিককে ( সূর্য পুত্র) । ইনজেকশন দিয়েছে। ২৪ ঘন্টার অবজারভেশনে রাখবে তাকে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুপুর দেড়টার পর। উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটালে। ডাক্তার কোন কিছু বলতে পারছে না। আমি ইন্টারভিউ দিয়ে স্টলে গেলাম। আবারো ফোন করলাম। কোন অগ্রগতি নেই। বাসায় ফেরার সময় আবারো ফোন করলাম। ব্যাথা কমেছে। তবে বিকাল থেকে তাকে কোন খাবার বা পানি দেয়া হচ্ছে না। ঘটনা ঘোলাটে করা হচ্ছে। কাল রাত ৯টা পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। অবস্থা দেখে তারপর অপারশেন এর ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

আমি সকালে যাবো। দেখি কি অবস্থা……………… শুধু আপনাদের কাছে এই উচ্ছাস পূর্ণ ছেলেটির জন্য সামান্য দোয়া চাই। আর কিছু না।


[ছবি অনুলেখা: পাগালাটে বন্ধু আমার সূর্য পুত্র ]

ব্লগার সূর্য পুত্রের দেয়া শেষ পোস্টটিতে সে জ্বরকে না আসার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু জ্বর তো এলোই সাথে নিয়ে এলো আরো কিছু….


আপডেট খবর ( ৪/০২/২০১০ রাত ১১টা)

কিডনী এবং এপেনডিসাইটিস এর সমস্যা ধরা পড়েছে। ডাক্তার রাত সাড়ে ৯টায় কৌশিককে পরীক্ষা করে গেছেন। অপারেশন রাতে আর হচ্ছে না। খাবার দেয়া এখনো বন্ধ রয়েছে। সেলাইন এবং ইনজেকশন চলছে। শরীর মারাক্তক ভাবে দূর্বল। হালকা জ্বর আছে। কথা বলতে পারছে না ঠিক ভাবে।

আপডেট খবর (৫/০২/২০১০ দুপুর ২টা ২৭)

কৌশিকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রত ইউনাইটেড হসপিটালে নেয়া হচ্ছে…..

ফেব্রুয়ারি 1, 2010

“লেখালেখির প্রাণ যোগাক বাংলা ব্লগ”

যার অধীনে আছে: বাংলা ব্লগ,বাংলাদেশ — অরণ্য আনাম @ 8:21 পুর্বাহ্ন
Tags: , , ,

। সাবাইকে বাংলা ব্লগ দিবসের শুভেচ্ছা ।

স্বাধীন ভাবে লেখালেখি করার জন্য ব্লগ একটি উন্মুক্ত
স্থান। ব্লগিং এর বর্তমান উৎকর্ষতার কারণে ব্লগকে এখন একটি অন্যতম মিডিয়া
হিসেবে গণ্য করা যায় ।

১.

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। আর এই ভাষা চর্চা ও বাংলা ভাষাকে আরো বেশি
সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ব্লগ সাইট গুলো অন্যতম মাধ্যম। বাংলা ব্লগিং এর
ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। প্রায় ৫-৬ বছর ধরে ইন্টারনেটে বাংলায় ব্লগিংয়ের চলন।
বাংলায় ব্লগিং এখন সবার হাতের নাগালে এবং বাংলায় লেখালেখির উপায়
এখন আরো সহজতর। সামান্য চেষ্টায় যে কোন কেউ ইন্টারনেটে বাংলা লিখতে
পারেন। বাংলা ব্লগ এখন বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষীদের অন্যতম মিলন কেন্দ্র
এবং স্বাধীন মতামত প্রদানের উন্মুক্ত স্থান।

বাংলা ব্লগ কে ঘিরে সবারই রয়েছে নানা রকম আশা আকাঙ্খা। আর সেই
আশা আকাঙ্খাগুলোতে একটি বিশেষ দিনে আরো বেশি আলোড়িত করে, আরো বেশি
উৎকর্ষমান সৃষ্টি করে এর প্রভাব ও প্রকাশকে জানান দেয়া দরকার। এর সাথে সব
বাংলা কমিউনিটি ব্লগ গুলোর মধ্যকার সমন্বয় সাধনের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ
উপায়ও প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্যে “বাংলা ব্লগ দিবস” সাইটের মাধ্যমে সর্বজনীন
ব্লগারদের মতামত ও ভোটের মাধ্যমে প্রতি বছর ১ লা ফেব্রুয়ারি তথা ভাষা
মাসের প্রথম দিন “বাংলা ব্লগ দিবস” উদযাপনের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
সর্বজনীনভাবে গৃহিত হয়েছে।

>
ফলে এটা প্রমাণ হয় যে, বাংলা ব্লগের সকল
অধিকার সাধারণ ব্লগারদের, কারোর একার সিদ্ধান্ত এখানে অকার্যকর।
>

২.

বাংলা ব্লগ দিবস উপলক্ষ্যে করণীয় হিসেবে ব্লগারদের কাছ থেকে যে সব
সাধারণ প্রস্তাবনা এসেছে সেগুলো হচ্ছে:

· ১লা ফেব্রুয়ারি “বাংলা ব্লগ দিবস” উপলক্ষ্যে বাংলা কমিউনিটি ব্লগ
সাইট গুলোর পক্ষ নিজ নিজ উদ্যোগে বিশেষ পোস্ট প্রদান করা ।

· ব্লগারদের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে
ব্লগার আড্ডার আয়োজনা করা ।

· বাংলা ব্লগিং এর প্রচার ও প্রসারের জন্য আরো কি কি কাজ করা যেতে
পারে সে বিষয়ে আলোচনা ।

· সকল বাংলা কমিউনিটি ব্লগ ও ব্যক্তিগত ব্লগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা
বাংলা ব্লগিং কমিউনিটিকে কিভাবে আরো সংঘবদ্ধ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা ।

উক্ত প্রস্তাবনার সাথে আপনার সুচিন্তিত মতামত একান্ত কাম্য।

৩.
বাংলা ব্লগ দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কমিউনিটি ব্লগ ও ব্যক্তিগত ব্লগসাইটের
ব্লগাররা আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ একুশে বইমেলায় “লিটল ম্যাগ চত্বর” তথা এখনকার “লেখক-পাঠক” চত্বর”-এ সন্ধ্যা ৬টায় মিলিত হতে যাচ্ছেন । সেখানে আপনার অংশগ্রহণ কাম্য । আপনি নিজে আসুন ।
ব্লগিংয়ে আগ্রহী আপনার বন্ধুদেরও আসতে উৎসাহিত করুন ।

১লা ফেব্রুয়ারি বাংলা ব্লগ দিবস সফল হোক।
“লেখালেখির প্রাণ যোগাক বাংলা ব্লগ”
ধন্যবাদান্তে

“বাংলাব্লগডে.কম”

সূত্র: বাংলাব্লগডে.কম

পরবর্তী পৃষ্ঠা »

Theme: Rubric. Blog at WordPress.com.

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.