
রাত ১২টায় রাজু ভাস্কর্যে
রাত সাড়ে ৯টায় আমি এবং পরাগ স্টল থেকে বের হলাম। মার্শাল টিএসসিতে অপেক্ষা করছিল। ওখানে গিয়ে মার্শালকে পেন ড্রাইভে ছবি আর মুভি দিলাম। ক্ষুধায় পেট আমার চো চো করছে। মার্শাল বললো, “চলো! নীলক্ষেত গিয়া তেহেরি খাই”। আমরা তিন জন হেঁটে হেঁটে গেলাম নীলক্ষেত। শুধু তেহেরি আর খিচুরি আছে। পরাগ তো গরুর মাংস খাবে না। অন্য হোটেল থেকে ভাত আর মাছ আনালাম। খুব নাকী ঝাল। পরাগের অবস্থা টাইট।
খাওয়া শেষে চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে রিক্সায় গেলাম শাহবাগ। মার্শাল চলে গেল বাসায়। আমি আর পরাগ ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু, আমার ক্যামেরা ঝামেলা করছে। রীতিমত ডার্করুমের কাজ করলাম। কিন্তু সমস্যা আরো রাড়লো। তারপর ঠান্ডা মাথায় টিএসসি চত্বরে গিয়ে অন্ধকারে বসে ক্যামেরার সমস্যা সমাধাণ করলাম। পুরো সফল।

দুই ভাই ভ্যান গাড়িতে গুটিসুটি করে শীতের মধ্যে শুয়ে আছে।
ছবি তুলছি। ১২টা বাজলো। সাড়ে ১২টার পর আমি আর পরাগ রওনা দিলাম শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে। এবার রাস্তা ব্যবহারে খুব কড়াকড়ি। আমার কাঁধে ল্যাপটপ ব্যাগ + আমার ব্যাগ + ট্রাইপোড। অনেক ভারী। আমার অবস্থা কাহিল। কোমর আর কাঁধের অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। পরাগ এই প্রথম শহীদ মিনারে একুশে ফেব্রুয়ারিতে এসেছে। তাও আবার সবার উপরে উঠেছে, ছবি তুলেছে। এই রকম অভিজ্ঞতা গত বছর ছিল বোকাসোকার।

রাত পৌনে ১টায় শহীদ মিনার।

শহীদ মিনারের এক দিক।

শহীদ মিনার বেদিতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং ঢাবি উপাচার্যের পুষ্পার্ঘ।

এই শিশুটিও এসেছিল বড়দের সাথে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে।
বেশ কিছু ছবি তুললাম এবং ভিডিও করলাম। ছবি তুলে মজা পাচ্ছিলাম না। কেমন যেন অসহায় লাগছিল পরিবেশের কাছে। রাত ৩টার পর টিএসসির বারান্দায় এলাম। শীত বাড়ছে। পরাগের অবস্থা খারাপ। তার খুব শীত লাগছে। চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো। আমি ল্যাপটপ নিয়ে ছবি আপলোড দিলাম সাথে এই পোস্ট। খুব ক্ষিধে লেগেছে। দু কাপ চা আর একটা কেক খেয়ে রইলাম।
ভিডিও:






